এশিয়া কাপ খেলেই হাতের আঙুলে সার্জারি সাকিবের!

458
Advertisement

 

ঈদের ছুটি শেষ। তবে আমেজ রয়ে গেছে। সেই ঈদের আমেজ নিয়েই এশিয়া কাপের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হবে কাল। ১৩ দিনের ক্যাম্প শেষে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মাশরাফি বাহিনী যাত্রা করবে আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে।

ঘরের মাঠে দুই ফরম্যাটের (একবার ৫০ ওভারের, অন্য বার টি-টোয়েন্টি) ফাইনালিষ্ট, তাই টাইগারদের এবারের এশিয়া কাপ যাত্রাটা অন্য বারের মত নয়। ভক্ত-সমর্থকরা অধীর আগ্রহে উন্মুখ অপেক্ষায়। এবার মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ এশিয়া কাপ খেলতে যাবে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে।

কিন্তু পাশাপাশি দ্বিধা-সংকোচ ও সংশয় কাজ করছে। সবার কৌতুহলী প্রশ্ন, ‘আচ্ছা সাকিব কি খেলতে পারবেন?’ আবার কেউ কেউ ঘুরিয়ে জানতে চাচ্ছেন, ‘সাকিব কি এশিয়া কাপের আগেই বাঁহাতের ‘কনিষ্ঠায়’ অপারেশন করাবেন, না এশিয়া কাপ খেলে তারপর মানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজের আগে সার্জারি করাবেন?’

এশিয়া কাপের প্রস্তুতির সময় যতই ঘনিয়ে আসছে এ প্রশ্ন ততই জোরালো হচ্ছে। যদিও আগে থেকেই সাকিবের সার্জারি নিয়ে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা সাকিব শুরুতে চেয়েছিলেন এশিয়া কাপ না খেলে তার আগে সার্জারি করিয়ে ফেলতে। তার লক্ষ্য ছিল এশিয়া কাপের আগে অপারেশন করিয়ে তার ধকল ও রিহ্যাব শেষ করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলার।

মিডিয়ার কাছে শুরুতে তা বলেও ফেলেছেন। কিন্তু ওদিকে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের চিন্তা ভিন্ন। দেশীয় ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা বিসিবি প্রধান চেয়েছেন এবং চাচ্ছেন সাকিব এশিয়া কাপ খেলুক। যদিও শেষ পর্যন্ত সাকিব হজে যাবার পর তিনি বিষয়টি সাকিবের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। মিডিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘সাকিব যা চাইবে, তাই হবে।’

এদিকে সাকিব পবিত্র হজব্রত পালন করতে গেছেন। হজ শেষে আজ অবধী দেশে ফেরত আসেননি। জানা গেছে ২৮-২৯ আগস্টের মধ্যে ফিরে আসবেন। ধারণা করা হচ্ছে সাকিব দেশে ফেরার পর সে প্রশ্নের জট খুলবে।

সাকিব এশিয়া কাপ না খেলে সার্জারি করাবেন, নাকি এশিয়া কাপে অংশ নিয়ে তারপর অপারেশন কক্ষে ঢুকবেন- তা যার সবচেয়ে ভাল জানার কথা, সেই মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এখন পর্যন্ত পুরোপুরি অন্ধকারে।

আজ জাগো নিউজের সাথে আলাপে প্রধান নির্বাচক কিছুই স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি। বার বার বলেছেন, ‘আমি এখন কিছুই বলতে পারব না। আগে সাকিব হজ শেষে দেশে ফিরে আসুক। তারপর পাপন ভাইয়ের (বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন) সাথে কথা বলে নিশ্চয়ই বিষয়টি ফাইনাল করবে। তখনই কেবল বলা যাবে আসলে সাকিব এশিয়া কাপ খেলবে কি খেলবেনা।’

এদিকে ক্রিকেট পাড়া ও মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে চাপা গুঞ্জন, বিসিবি প্রধান যেহেতু চেয়েছেন, তাই সাকিব হয়ত এশিয়া কাপ খেলেই অপারেশন করাবেন। এই গুঞ্জনের একটা বিশেষ হেতুও আছে।

কারন আগের দুই বারের ফাইনাল খেলায় এবার বাংলাদেশকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভাবা হচ্ছে। যে আসরে বাংলাদেশের লক্ষ্য শিরোপা, সেখানে সাকিব ছাড়া খেলতে যাওয়া মানে শক্তির অনেকটাই কমে যাওয়া। আগেই জানা হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুলে সার্জারি হলে অন্তত ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে কাটাতে হবে সাকিবকে। তার মানে হজ থেকে এসে সার্জারির টেবিলে বসলেই সাকিবের আর এশিয়া কাপ খেলা হবেনা। ভিতরের খবর, বিসিবি প্রধান তথা বোর্ড নীতিগতভাবে সাকিবকে এশিয়া কাপ খেলানোর পক্ষে। তাই এশিয়া কাপের আগে সাকিবের অপারেশন করার সম্ভাবনা খুব কম।