‘তুমি যা বলছ, ঠিক বলছ ওজিল’

257

 

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসুত ওজিলের হঠাৎ অবসর নিয়ে ফুটবল বিশ্বে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। ‘বর্ণবৈষম্যে’র অভিযোগে এনে রাগে-ক্ষোভে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে এখন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের খেলা চলছে। ঠিক এ সময়ে এই জার্মান তারকার পাশে দাঁড়ালেন ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা।

ওজিলের পাশে দাঁড়িয়ে সানিয়া টুইটারে লেখেন, ‘তুমি ঠিক বলেছ মেসুত ওজিল, বর্ণবিদ্বেষ কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। তুমি যা বলছ, ঠিক বলছ। তা ছাড়া একজন ক্রীড়াবিদের জন্য তা খুবই দুঃখজনক। আর বেদনারও, তিনি একজন গুরুত্বর্ণ ব্যক্তি।’

গত মে মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন। সে সময় তাঁর সঙ্গে তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মানির দুই খেলোয়াড় ওজিল ও গুন্ডোগান দেখা করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে আর্সেনালের জার্সিও উপহার দিয়েছিলেন তিনি।

আর এ কারণে জার্মানিতে তীব্র সমালোচনার শিকার হন ওজিল।  কারণ, তুরস্কের সঙ্গে জার্মানির কূটনৈতিক সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। তাই জার্মানির খেলোয়াড় হয়েও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করা তাঁদের ঠিক হয়নি।

কড়া সমালোচনা শুনেও এত দিন ওজিল নীরব ছিলেন। রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরে মুখ খুলেছেন তিনি। ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে বিবৃতি দিয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে ওজিল বলেন, ‘সাফল্য পেলে আমাদের জার্মান বলা হয় আর হারলে বলে অনুপ্রবেশকারী! এমন কথা আমাদের বহুবার শুনতে হয়েছে। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মুখ থেকেও এমন কথা শুনতে হয়েছে আমাদের। এমন বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়েছে আমাদের।’

অবসরের কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে আরো বলেন, ‘অনেক কষ্ট নিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ এমন বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছি, যা মেনে নেওয়া কঠিনই।’

জার্মানির হয়ে ওজিল ৯২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন।  এর মধ্যে ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলেন তিনি।