দেশের ক্রীড়া-অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিচ্ছে সরকার

399
Advertisement

 

একদিন বাদেই জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাশ হতে চলেছে। এতে ক্রীড়াক্ষেত্রে কেমন বাজেট হবে, সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ‘লেআউট’ নির্ভর করছে।

এ বছর ক্রীড়াক্ষেত্রে পাঁচটি জায়ান্ট প্রকল্পসহ অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিচ্ছে সরকার। অনুন্নোয়ন খাতেও বরাদ্দ বাড়ছে। বরাদ্দ বাড়ছে ক্রীড়া বাজেটেও। বিগত বছরের সকল বাজেটের রেকর্ড ভেঙে এবার ‘হাজার কোটি’র ঘরে ঢুকতে যাচ্ছে ক্রীড়া বরাদ্দ।

গত বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে সর্বমোট ৯২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছিল। যা এবার বেড়ে হাজারে প্রবেশ করছে।

এই অর্থ ব্যয় করা হবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে ক্রীড়ার বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রকল্প খাতে বাজেটও বাড়ছে এবার।

সবমিলিয়ে এবার ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পাশ হতে চলেছে। যার মধ্যে ক্রীড়া বাজেট ১৩৫ কোটি টাকা। ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পাচ্ছে ৩৫ কোটি টাকা।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) আওতাধীনে ক্রীড়াক্ষেত্রে অবকাঠামোসহ উন্নয়ন ও অনুন্নোয়ন খাতে প্রকল্প তৈরি করা হয় এবং এগুলো অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যায়।

গত বছরের তুলনায় বাজেট বাড়ছে বলে জানান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) যুগ্ন সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস। তিনি বাংলানিউজকে জানান, ‘সবমিলে ক্রীড়াবাজেট ১৩৫ কোটি হবে। অনুন্নোয়ন খাতে ১২০ কোটি। এনএসসি পাচ্ছে ৩৫ কোটি। এনএসসিতে ক্রীড়া সংগঠনগুলোর জন্য বরাদ্দ ৯.৯৭ কোটি থেকে বেড়ে এবার দাঁড়াচ্ছে ১৫ কোটি এবং আন্তর্জাতিক গেমসে বরাদ্দ ৫ কোটি থেকে বেড়ে ১০ কোটিতে নেয়া হচ্ছে।’

এনএসসির এই বাজেটের সিংহভাগ (২০ কোটি) অংশ বেতন খাতেই চলে যাবে। বাকী টাকায় এবার প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন ফেডারেশনের যাবতীয় বিল (বিদ্যুত ইত্যাদি) চলে যায়।

তবে এবার উন্নয়ন খাতে পাঁচটি জায়ান্ট প্রকল্প হাতে নিয়েছে এনএসসি।

-পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রকল্প গৃহীত হয়েছে
-কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের বড় প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন
-মানিকগঞ্জেও একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে
-গুলশানে একটি জায়গার বরাদ্দ এসেছে। সেখানে ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ চলছে।
-মাদারিপুরের শিবচরে ৩০০ একর জমির উপরে অলিম্পিক ভিলেজ গড়ে তোলার প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন।

কবে নাগাদ কাজগুলো শুরু হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে অশোক কুমার জানান, ‘এগুলো প্রস্তাবের আকারে আছে। উন্নয়ন কাজে পরিবর্তন হয় সবকিছু। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেই আলাদাভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়। কোনটার দুই-তিন বছর, কোনটার আবার এক-দেড় বছর লেগে যায়।’

এবার সবমিলে ক্রীড়া জগতে বাজেট বাড়লেও তা চাহিদার তুলনায় কমই মনে করছেন তিনি। তবে, এগুলো দিয়েই তৃণমূল থেকে কাজ শুরু করতে হবে বলে জানান তিনি।