মেসির মত খেলোয়ারের জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করতে প্রস্তুত দিবালা

500
Advertisement

 

স্কোয়াড ঘোষণার আগে তার নাম নিয়েই অনেক কানাঘুষা হয়েছিল। জুভেন্টাসে সে যে জায়গায় খেলে থাকেন, বার্সাতেও একই জায়গায় খেলেন এ গ্রহের সেরা ফটবলার লিওনেল মেসি। তাই দিবালাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা নিয়েই অনেক কথা উঠেছিল আর্জেন্টিনার মিডিয়ায়। দিবালার জায়গায় অনেকেরই পছন্দ ছিল ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকার ইকার্দি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইকার্দি নয়, আর্জেন্টিনা কোচ সাম্পাওলি বেছে নিয়েছেন দিবালাকেই। যদিও তিনি তাকে মাঠে কোন পজিশনে খেলাবেন তা নিয়ে কথা বলেননি। তবে দিবালা জানিয়ে দিয়েছেন মেসিকে সাহায্যের জন্য তিনি মাঠের যে কোনো পজিশনেই খেলতে রাজি। সাধারণত ক্লাবে দিবালা এবং মেসি দু’জনেই খেলে থাকেন আক্রমণভাগে ডান দিকটাতে। তবে মেসি এই মৌসুমে বার্সাতে কিছুটা পেছনে নেমে খেলেছেন।

জুভেন্তাসের অ্যালেগ্রি কিন্তু দিবালাকে খেলিয়েছিলেন ডান দিকটাতেই। ‘লিওকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সফল করতে যে কোনো ধরনের সাহায্য করাটা যে কোনো ফুটবলারের জন্যই অনেক বড় কিছু। আমরা দলের প্রত্যেকে মাঠে লিওকে সাহায্য করার জন্য তৈরি। আমরা এটা ভেবে গর্বিত ও আত্মবিশ্বাসী হই যে, আমাদের আর্জেন্টিনা দলে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় রয়েছেন এবং এ জন্যই এবারের বিশ্বকাপে আমাদের স্বপ্নটা অনেক বড়। একজন ফুটবলারের জীবনে বিশ্বকাপ জেতাটা একটা স্বপ্নের মতো। আমি ক্লাবে যে পজিশনেই খেলি না কেন, আর্জেন্টিনার হয়ে জেতার জন্য আমি কোচের দেখানো যে কোনো পজিশনেই খেলতে প্রস্তুত।’

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান পাওলো দিবালা।এই মুহূর্তে আর্জেন্টিনার কোচ সাম্পাওলি যে আক্রমণ ভাগ সাজিয়েছেন, তাতে মেসির সঙ্গে দিবালা আর হিগুয়াইনকেই নাকি প্রথম একাদশে রেখেছেন। তবে অনেকেই মনে করছেন, মেসির সঙ্গে ডি মারিয়া আর আগুয়েরোর কম্বিনেশনটাই ভালো হবে। তবে দিবালা জানিয়েছেন, এখনই এসব নিয়ে তিনি ভাবছেন না। ‘আমি এ পর্যন্ত তিনটি ক্লাবের হয়ে খেলেছি এবং কোথাও আমি নির্দিষ্ট পজিশনে আঁকড়ে থাকিনি। আক্রমণ ভাগে যে কোনো পজিশনেই আমি স্বস্তি বোধ করি। তাই আর্জেন্টিনার হয়ে আক্রমণভাগের যে কোনো পজিশনে খেলতে আমার অস্বস্তি হবে না।’ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামার জন্য মুখিয়ে আছেন দিবালা।

‘আমি আবার পরিবারকে সবসময়ই বলি, আজ আমি এই বয়সে যেখানে এসেছি তার পেছনে কোচদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। আমার এই ছোট্ট ক্যারিয়ারে বিভিন্ন কোচের অধীনে খেলেছি, আর প্রতিবারই নতুন নতুন কিছু শিখছি। নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে, আমি আজ আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাচ্ছি। আমার ক্যারিয়ারে সব কিছুই কেমন যেন দ্রুত হয়ে গেল। ২০১১ সালে মাত্র ক্লাব ফুটবল খেলতে শুরু করি, তারপর এই কয় বছরেই দেশের হয়ে বিশ্বকাপ। মাঝের ছয় বছরে অনেক কিছুই পেয়েছি। বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব জুভেন্তাসের হয়ে খেলছি, লিওর পাশে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছি- একজন কিশোর ফুটবলারের কাছে এসব কিছুই স্বপ্নের মতো।’