জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কারের তালিকায় ফুটবলার বরুন দেওয়ান

1461
Advertisement

॥ দীপ্ত হান্নান ॥
বৃহত্তর পার্বত্য জেলার হয়ে সাবেক জাতীয় ফুটবলার বরুন দেওয়ান জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কার পেতে যাচ্ছেন। এরআগে চিংহ্লা মং চৌধুরী মারী (যার নামে রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে) মরনোত্তর এ পুরস্কার পান। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটি ৪৯ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সাথে বরুন দেওয়ানের হাতেও উঠতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পুরষ্কার তুলে দিবেন।

চলতি বছর একসঙ্গে চার বছরের (২০১৩, ’১৪, ’১৫ ও ’১৬) জন্য ৪৯ জনের নাম ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। পরে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি ৪৯ জনের নাম চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেয়। এ চূড়ান্ত তালিকা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।

ফুটবলার বরুন দেওয়ানের ফুটবলে হাতেখড়ি শুরু ১৯৮০ সালে। শাহ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক ও কোচ আবুল বাশার চৌধুরীর হাত ধরে ফুটবলে পদার্পন। এরপর জেলা ফুটবল ও জাতীয় ফুটবলে পা রাখা। ১৯৮৬ সালে মুক্তিযোদ্ধার হয়ে ঢাকার ফুটবলে যাত্রা শুরু, ৯৯ সালে ব্রাদার্সের হয়ে শেষ। মাঝখানে খেলেছেন দেশ সেরা ক্লাব আবাহনী, মোহামেডান ও জাতীয় দলে। এরই মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গেছেন বিশ্বের ১৮টি দেশে। আন্তজার্তিক অঙ্গনে নিজের ক্যারিয়ারে সেরা সাফল্য ১৯৯৫ সালে মায়ানমারে অনুষ্ঠিত চারজাতি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফুটবল থেকে অবসরে গিয়ে নিজেকে রাঙ্গামাটি ক্রীড়াঙ্গনের সাথে যুক্ত করে নেন। ২০০৬-১০ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক ও ২০১০-১৪ এবং ২০১৪-১৮ সালে একই সংস্থায় টানা দুবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কার মনোনিতদের তালিকায় নিজের নাম চলে আসায় উচ্ছসিত বরুন দেওয়ান সিইচটি স্পোর্টসকে জানান, ফুটবলের জন্য সারাজীবন যা দিলাম, তার স্বীকৃতি স্বরুপ জীবিত অবস্থায় দেখে যেতে পারব, তা কখনও কল্পনাও করিনি। আমি অভিভুত ও উচ্ছসিত। এ সম্মান, এ অর্জন শুধু আমার নয়, বৃহত্তর পার্বত্যবাসীর।

উল্লেখ্য, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১৯৭৬ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রবর্তন করেন। ওই বছর আটজনকে দেয়া হয়েছিল ক্রীড়া পুরস্কার। ছয় বছর নিয়মিত দেয়ার পর ১৯৮২ সাল থেকে বন্ধ হয়ে যায় জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। ১৯৯৬ সালে আবার শুরু হয় পুরস্কার প্রদান। ২০১২ সাল পর্যন্ত ২২৯ জন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক পেয়েছেন এ পুরস্কার। ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, সনদপত্র, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি ব্লেজার দেয়া হয় পুরস্কারপ্রাপ্তদের।