নেতৃত্বে পরিবর্তন চান ক্রীড়াঙ্গনের সবাই

542
Advertisement

: ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাত পেরোলেই রাঙ্গামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন। নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নিবেন আগামী চারবছরের জন্য। কিন্তু পুরনো নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখতে চান না জেলার ক্রীড়াঙ্গনের সংগঠক, খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদিরা। গত চারবছর ব্যর্থতার তলানীতে পৌছে যাওয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সামনের দিনগুলোতে নেতৃত্বে পরিবর্তন চান, দেখতে চান নতুন নেতৃত্ব। যদিও বা নতুন-পুরনো সবারই চোখ আগামী চারবছরের দায়িত্বের দিকে।

জেলার ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদিদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বারবার একই মুখগুলো দেখতে দেখতে বিরক্ত ধরে গেছে। ফান্ডে অর্ধকোটি টাকা থাকার পরও গত চারবছর মাঠে খেলাধুলা চালাতে না পারা, এটা সত্যিই লজ্জাজনক। এ ব্যর্থতা, এ দায় চলমান কমিটিকেই নিতে হবে। অনেকের মতে, পুরনো নেতৃত্বে জং ধরেছে। দেখলে মনে হয় ঝিমিয়ে পড়েছে। তাদের এই ঝিমিয়ে পড়ার কারণে স্থবিরতা বিরাজ করছে রাঙ্গামাটির ক্রীড়াঙ্গনে।

তবে, এবার অনেক তরুন অথচ নতুন সংগঠক নির্বাচন করছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে। পরিবর্তনের আশা রাখছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি চলছে এ নিয়ে। কেউ কেউ লিখছেন, তরুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় জেলা ক্রীড়া সংস্থা। আবার কেউ কেউ লিখেছেন, একঝাঁক তরুন সংগঠকের হাতে গতি ফিরতে পারে ডিএসএ,র। জেলার সাবেক খেলোয়াড়দের অধিকাংশ মনে করেন, ক্রীড়াঙ্গনে গতি ফেরাতে নেতৃত্বের পরিবর্তন অবশ্যই দরকার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলার সাবেক ক্রিকেটার মোঃ নাজিম উদ্দিন লিখেছেন, গত ৮/৯ বছর ধরে রাঙ্গামাটির জেলা ক্রীড়া সংস্থার হতাশাজনক এক্টিভিটি। অথচ রাঙ্গামাটি থেকে গত ৮/৯ বছরে অন্ততঃ ডজন খানেক ফুটবল, ক্রিকেট বা অন্যান্য খেলা সমূহ থেকে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় বেরিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় জাতীয় পর্যায়ে স্টার না পেলেও জেলা ক্রীড়া সংস্থা নূন্যতম নিয়মিত ভাবে ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি লীগ সমূহ পর্যন্ত মাঠে গড়াতে শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ব্যর্থতার দায়ভার দায়িত্বকালীন কার্য্যনির্বাহী পরিষদের উপরই বর্তায়, এখানে ব্যর্থতার দায়ভার অন্যের উপর চাপানোর কোন সুযোগ নেই। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করতে হয় যে, যেমন একজন ভাল ছাত্র অনেক সময় ভাল শিক্ষক হতে পারেনা ঠিক তেমনি খেলাধূলার ব্যবস্থাপনাতেও জাতীয়-আন্তর্জাতিক ট্যাগ লাগানো কোন খেলোয়াড়ও ভাল অর্গানাইজার নাও হতে পারে। যার প্রমান আপনারা ইতিমধ্যেই দেখেছেন।

সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠক অমলেন্দু হাওলাদার বলেন, যারা খেলাধুলা নিয়ে কাজ করেন, তাদেরই ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্বে আসা দরকার। গত কয়েকবছরের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে ক্রীড়া বান্ধব কমিটিই প্রত্যাশা করছি।

খেলাধুলা পরিচালনাতে যাদের অনিহা এমন ব্যক্তিদের ডিএসএ থেকে দুরে রাখার পরামর্শ দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ক্রিকেট দলের এক খেলোয়াড় বলেন, ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যক্তিকে সংস্থার দায়িত্বে নিয়ে আসা হাস্যকর বিষয়। তিনি ভোটারদেরকে এধরণের ব্যক্তিকে ভোট প্রদানে বিরত থাকারও আহবান জানান।