পাহাড়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার উৎসব শুরু

49

 :দীপ্ত হান্নান: মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মুক্তিযদ্ধের চেতনা ধারন করে দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করার মাধ্যমে বাংলাদশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়ে হবে তরুন সমাজকে। এরা যদি সততা ও ন্যায় নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে পারে তাহলে একদিন আমরা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।

শনিবার সকালে কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলি সরকারি কলেজ মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং এ অঞ্চলের অপার সৌন্দর্যকে বিশে^র কাছে তুলে ধরতে বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার উৎসব গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করবে। এতে করে তরুনরা উৎসাহিত হবে। দেশ গঠনে তরুনদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষন গণনার পরপরই পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম উৎসব আয়োজন করায় আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এটি পার্বত্য অঞ্চলের কৃষ্টি কালচার, সম্ভাবনাকে আরো বেশি বিশে^র কাছে তুলে ধরতে সহায়তা করবে। তিনি পার্বত্য শান্তি চুক্তির কথা স্মরণ করে দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি করে এ অঞ্চলে শান্তি এনেছে বলে এখানকার জনগণ উৎসব পালন করতে পারছে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেশের এগিয়ে যাওয়ার পিছনে পার্বত্যাঞ্চলের গুরুত্ব কম নয় বলে, মন্ত্রী বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, মহিলা আসনের সদস্য বাসন্তী চাকমা, বিশ^ নন্দিত অ্যাডভেঞ্চারার মিজ এনি কুইমেরে, বিএন অধিনায়ক, ক্যাপ্টেন এম এ মুকিত খান(সি) পিএসসি, জেলা প্রশাসক একে এম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম।
পাঁচদিন ব্যাপী এই অ্যাডভেঞ্চার উৎসবে দেশ বিদেশের প্রায় ১০০,র বেশি অ্যাডভেঞ্চারার অংশ নিচ্ছে। তারা তিন পার্বত্য জেলায় কায়াকিং, রোপ কোর্স, হাইকিং, ট্রেকিং, সেইলিং, টেইল রান, মাউন্টেন বাইক, কেভ ডিসকভারী, টিম বিল্ডিং, জিপ লাইন, ক্যানিওনিং ইভেন্টে অংশ নিবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক কমিটির সুত্রে জানা গেছে, এ অ্যাডভেঞ্চার উৎসবের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। ১৫ জানুয়ারী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
এর আগে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঝুলন দত্ত এবং ফনিন্দ্রলাল ত্রিপুরার পরিচালনায় উৎসবে শতকন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। পরে বেলুন উড়িয়ে ও পায়রা অবমুক্ত করার মাধ্যমে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন তিনি।