সেই বিস্ময় বালকের জন্মদিন

72
Advertisement

ঃক্রীড়া ডেস্কঃ রোজারিও থেকে বার্সেলোনা: সান্তা ফে,রোজারিও থেকে কাতালুনিয়া এবং নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজ থেকে বার্সেলোনা- দুরত্ব মাত্র ১০৪৩৫ কিলোমিটার।সেতু বন্ধন করলেন এক ভিনদেশী দূত, যাকে আপনি লিও নামে জানেন।হয়তো বা প্রকাশ্যে ঘৃণার বাণী শোনান আর ম্যাজিকাল মোমেন্ট এ একটু আফসোস হয়তো নিজের অজান্তেই করেন।আর দু:সময়ে ট্রল করেন, হ্যা তবে সেটা লিওর জন্য না, সেটা আমার্ ফ্যানদের জন্যই।
রোজারিও থেকে উঠে আসা সেই ছোট্ট ছেলেটি, গ্রোথ হরমোনের অভাবে যার জীবনটাই হয়ে উঠেছিল অনিশ্চিত। সেই ছেলেটিই আজ প্রতিপক্ষকে অনিশ্চিত ধাধায় ফেলে দেয় প্রতিনিয়ত। চলুন, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাই সেইসাথে ঘড়ির কাটাটা উল্টোদিকে ঘুরিয়ে ফ্ল্যাশব্যাক করি আজ থেকে ঠিক৩০ বছর আগে।
আমাজন, রেটল স্নেক আর নদীবেষ্টিত এক মহাদেশ দক্ষিন আমেরিকা। অনেকেই চেনে লাতিন আমেরিকা নামে। গোটা দুনিয়ার সাথে এখানকার জীবনযাত্রা ঠিকঠাক মেলে না। গোটা দুনিয়ায় সূর্য ওঠে, লাতিনেও ওঠে। তবে লাতিনের পার্থক্য হল সুর্যোদয়ের সাথে সাথে এখানে প্রতিটি ভোরে সুর্যোদয়ের সাথে সাথে সৃষ্টার উপাসনার পাশাপাশি এক শিল্পের চর্চা শুরু হয়, সেই শিল্পের নাম ফুটবল। হ্যা লাতিনদের কাছে ফুটবলটা শিল্প সেইসাথে ফুটবল নামের শিল্পটা লাতিনের মানুষজনের কাছে এক পরম ধর্ম। ফুটবল এখানে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বেঁচে থাকার সংগ্রামে এক অত্যাবশ্যকীয় সঙ্গী।
লাতিনেরই একটি দেশ আর্জেন্টিনা। আমাজন বেষ্টিত লা প্লাটার তীরে গড়ে ওঠা এই দেশেরই এক বড় শহর রোজারিও। রোজারিও শহর থেকেই উঠে এসেছিলেন বিখ্যাত বিপ্লবী চে গুয়েভারা।
রোজারিওর এক লোহার কারখানায় কাজ করা হোর্হে মেসি কি কখনো ভেবেছিলেন চে গুয়েবারার নামের পাশে রোজারিওর সুর্যসন্তান হিসেবে আরেকটি নাম প্রবল উচ্ছাসে উচ্চারিত হবে। দুরতম কল্পনায়ও কি হোর্হে কখনো ভেবেছিলেন ইশ্বর তাকে এমনই এক অমুল্য রত্ন দেবেন যেই রত্ন তার আলোয় আলোকিত করবে গোটা বিশ্বকে?
১৯৮৭ সালের ২৪শে জুন, সদ্যজাত পুত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে হোর্হে মেসি সেদিন ইশ্বরের কাছে কি প্রার্থনা করেছিলেন সেটা ইশ্বরই জানেন। কিন্তু সেদিন ইশ্বরের কাছে হোর্হে যা চেয়েছিলেন তার থেকে হাজারগুণ বড় উপহার হোর্হে পেয়েছেন তার জীবনে। আজকের দুনিয়ায় ডিফেন্ডারদের ত্রাস হয়ে যিনি আতঙ্ক ছড়ান প্রতিনিয়ত তিনিতো হোর্হেরই সন্তান। গোটা দুনিয়া আজ যার কল্যানে হোর্হেকে চেনে সেই ছেলেটারই বাবা হোর্হে। সেলিয়া কুচ্চিতিনির কাছে ফুটবল চিরকাল ঋণী হয়েই থাকবে, লিওনেল মেসি নামের মহানায়কের মমতাময়ী মা’তো এই মহিয়সী নারীই। সেইসাথে আরেকজন মানুষের নাম উচ্চারিত হবে প্রবল শ্রদ্ধার সাথে, তিনি লিওনেল মেসির দাদু। যিনি লিওকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ফুটবল নামের চর্মগোলকের সাথে।
রোজারিওর বস্তি থেকে ইউরোপের অভিজাত ফুটবল মাঠে উঠে আসার গল্পটা কখনোই সহজ ছিল না। ফুটবলের প্রতি অসীম ভালোবাসা নিয়ে জন্ম নেয়া ছেলেটার জীবন বিপন্ন হতে বসেছিল গ্রোথ হরমোনের অভাবে। কিন্তু ইশ্বর নিজেই হয়তো সেটা চাননি। ইশ্বর চাননি বলেই লিওনেল মেসি নামের ছোট্ট ছেলেটা আজো প্রবল দাপটে ফুটবল দুনিয়া কাপিয়ে বেড়ায়। রাস্তায় ফুটবল খেলতে গিয়ে লিও একদিন চোখে পড়েন কার্লোস রেক্সাসের। যিনি স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার তৎকালীন স্পোর্টস ডিরেক্টর। রেক্সাস দেখছিলেন একটা ১৩ বছর বয়সী ছেলে কি করে অবলীলায় ৫-৬ জনকে কাটিয়ে বল পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রেক্সাসের চোখ ছেলেটিকে অনুসরণ করে উপস্থিত হল ছেলেটির বাড়িতে। রেক্সাস জানালেন ছেলেটিকে বার্সায় নিতে চান তিনি। বাধ সাধল সেই চিরায়ত সমস্যা গ্রোথ হরমোনের চিকিৎসা ব্যয়ের প্রসঙ্গ। শেষ পর্যন্ত লিওর চিকিৎসা খরচটাও বার্সার পক্ষ থেকেই দেয়া হবে বলে জানানো হয়, তবে শর্ত দেয়া হয় লিও স্পেনে চলে আসবে। সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে সেদিন না করেননি হোর্হে।
চুক্তিপত্রটি ছিল কাগজের ন্যাপকিনের। সেটাতেই স্বাক্ষর করেছিলেন আজকের কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। এটি ছিল বার্সেলনার সাথে তো বটেই এমনকি জীবনের প্রথম কোন ফুটবল ক্লাবের সাথে চুক্তি। তখন বয়স ছিল ১১।
কি ভাবছেন,বার্সার একাডেমীতে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমেই তার সংগ্রাম সমাপ্ত?তাহলে আপনি ভুল করবেন।বেদনানাশক ইনজেকশন প্রতিদিন পুশ করে প্র্যাকটিস করতে যেতে হত ছোট্ট লিওকে।লা মাসিয়া তে লিও র সঙ্গী ছিলেন পিকে, ফ্যাব্রিগাসরা।তারা জানতেনই নাহ লিও কথা বলতে পারে,ধরে নিয়েছিল বাক প্রতিবন্ধী।আসলে কেউ কেউ কথায় নাহ কাজেই দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়।।
মাঝখানে মাত্র কয়েকটি বছরের ব্যবধান এর মধ্যেই ভেঙেছেন ফুটবল দুনিয়ার প্রায় সকল রেকর্ড, নিজের করে নিয়েছেন ফিফার চার চারটি ব্যালন ডি’অর। নিজেই রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন আবার নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন। ২০১২ সালে জার্মান ফুটবলার গার্ড মুলারের এক বছরে ৮৫টি গোলের রেকর্ড ভেঙে মেসি ৯১টি গোলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড সৃষ্টি করেন। “আমার করা একবছরে ৮৫টি গোলের রেকর্ড টিকে ছিল প্রায় ৪০ বছর-এখন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় এই রেকর্ড ভেঙেছে এবং অবশ্যই আমি তার জন্য আনন্দিত। সে অবিশ্বাস্য একজন খেলোয়াড়, অতিমানবীয়”- মেসিকে নিয়ে এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন মুলার।
মেসিকে বর্ণনা করেছেন-
“”In my entire life I have never seen a player of such quality and personality at such a young age, particularly wearing the ‘heavy’ shirt of one of the world’s great clubs… Before a game, you can plan for everything. But Messi can produce a move that no-one expects and change the game in an instant.” – Fabio Capello
মেসি তার স্বরূপ চিনিয়েছেন অনেক আগেই তবে বিশ্ববাসীর সামনে বিস্ময় হয়ে দেখা দিতে শুরু করেন ২০০৪/০৫ মৌসুমে। এই মৌসুমে মেসি সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে লীগে গোল করে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। ২০০৬ সালে মেসি একই মৌসুমে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী টিমের সদস্য ছিলেন। যদিও ইনজুরির জন্য সীজনের শেষের অংশটুকু খেলতে পারেন নি।পরবর্তী মৌসুমেই (২০০৬-০৭) মাত্র ২০বছর বয়সে মেসি বার্সেলনার হয়ে লীগে ২৬ ম্যাচে ১৪ গোল করে স্ট্রাইকার হিসেবে বার্সেলনার প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠেন । এরপরেই ২০০৯-১০ মৌসুমে ৪৭টি গোল করে স্পর্শ করেন রোনাল্ডকে। এরপর শুধুই রেকর্ড ভাঙার গল্প। ২০১২সালে সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে সকল রেকর্ড নিজের করে নেন একবছরে ৯১টি গোল করার মাধ্যমে। ২০১৩ সালের শুরু পর্যন্ত মেসি ক্লাব ফুটবলে ২৯২ টি ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৩১টি গোল করেন। ইতোমধ্যে সকল নামকরা ফুটবল ক্লাবের লক্ষ্যে পরিনত হলেও মেসি ২০১২সালে বিশ্বের অন্যতম দামি ফুটবলার হিসেবে বার্সেলনার সাথে ২০১৮সাল পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
লিওর জীবনে পেপ মারাত্নক প্রভাব ফেলেছিলেন আর পেপ স্বয়ং লিওকে নিয়ে বলছেন”আমি লিওকে বিশ্বসেরা বানাতে চেয়েছিলাম কিন্তু সে আমাকে বিশ্বসেরা বানিয়ে দিল”।
লিও তার ক্যারিয়ারের জন্য মারাত্নকভাবে সহায়তা লাভ করেন ফ্রাংক রাইকার্ড থেকে।তাইতো লিও বলেছেন-
Leonel messi:Frank Rijkaard was most important coach of my career.
“If he had not decided to get me in the first team to train and play perhaps I had never reached the first team.”
লিওর জাদুকরী বা পা নিয়ে ওয়ান ন্ড অনলি ইব্রাহিমোভিচ-
“Messi does not need his right foot. He only uses the left and he’s still the best in the world. Imagine if he also used his right foot, Then we would have serious problems.” – Zlatan Ibrahimovic
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে যাওয়ার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মেসি বার্সেলোনার সাথে তার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন বলেন “বার্সেলোনা আমার জীবন। আজ আমি যেখানে পৌঁছেছি সেখানে তারাই আমাকে নিয়ে এসেছে। আমি তাদের ছাড়তে পারবনা এবং ছাড়তেও চাইনা। যদিও আমি জানি প্রিমিয়ার লিগ খুব ভাল কিন্তু আমি আমাকে ইংল্যান্ডে খেলতে দেখতে পারবনা কারণ আমার হৃদয় সবসময় বার্সেলোনার সাথে”। শুধু তাই নয় মেসির এ বিনয় আবারো প্রকাশ পায় যখন তিনি শুধুমাত্র মাতৃভূমির হয়ে খেলবেন বলে স্পেনের অনুর্ধ ২০-এ খেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। আর এই বিনয়ের কারনেই হয়তো মেসির শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা দিতে কার্পন্য করেননি কোন কিংবদন্তী ফুটবলার। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বলেছেন “মেসির তার নিজের মত ব্যক্তিত্ব রয়েছে আর আমার আছে আমার মত। ওর যেমন নিজের খেলা আছে তেমনি আমারো আছে। আমিও ওর মতো বড় একটি ক্লাবে খেলছি। আসলে আমরা সব দিক দিয়েই ভিন্ন। তবে এখন পর্যন্ত ওই সেরা”। একইভাবে ফুটবল কিংবদন্তী ম্যারাডোনা বলেছেন “আমার ক্যারিয়ারে আমি অনেক বড় মাপের ফুটবলার দেখেছি। কিন্তু মেসির মত বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আজও কারো দেখিনি”।
লিওকে নিয়ে বলেছেন-“”I like Messi a lot, he’s a great player. Technically, we’re practically at the same level.” – Pele
মেসির সামর্থের প্রমাণ পাওয়া যায় আর্সেন ওয়েঙ্গার যখন বলেন এক প্রশ্নের জবাবে-
Who is the Best Player in the World?
:Leo Messi.
Who is the Best Player Ever?
-Leo Messi.”
-Arsene Wenger
রাউল বলেছেন- the other day I saw one of his games. He was running with the ball at a hundred per cent full speed, I don’t know how many touches he took, maybe five or six, but the ball was glued to his foot. It’s practically impossible.”
ব্যক্তিজীবনে তিন পুত্রের পিতা মেসি যে শুধু খেলা নিয়েই ব্যস্ত তা নয় বরং নিজের অবস্থানের সামাজিক দায়বদ্ধতা উপলব্ধি করেই মেসি ইউনিসেফ এর শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করতে চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের দাতব্য সংস্থা, অবদান রাখছেন আর্জেন্টিনার চিকিৎসা ক্ষেত্রেও।
টোটাল ফুটবলের জনক স্যার জোহান ক্রইফ বলেছিলেন-
“”For the world of football, Messi is a treasure because he is a role model for children around the world… Messi will be the player to win the most Ballons d’Or in history. He will win five, six, seven. He is incomparable. He’s in a different league.” –
“লিজেন্ডদের কিছু উক্তি মেসিকে নিয়ে-
:- “I have seen the player who will inherit my place in Argentine football and his name is Messi. Messi is a genius.” –
Diego Maradona
:-“He is always going forwards. He never passes the ball backwards or sideways. He has only one idea, to run towards the goal. So as a football fan, just enjoy the show.” – Zinedine Zidane
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এ সর্বোচ্চ গোলদাতার খাতায় মান উঠলেও রয়ে গেছে বিশাল এক অতৃপ্তি, এখনো মেসি স্বাদ পাননি বিশ্বকাপ ট্রফির। আর তাই বলায় যায়, মেসি সাফল্যের শিখরে অবস্থান করলেও বিশ্বকাপপছাড়া যে তিনি অতৃপ্ত।
প্রতিনিয়ত ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলছেন প্রতিপক্ষকে, রেকর্ড বইয়ের আলোড়নটাও উঠছে সমানতালে। ফুটবলের ইতিহাসটা নতুন করে লেখাতেই হয়তো ইশ্বর তাকে নশ্বর পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। নইলে একজন ব্যক্তির বা পায়ে কি করে এতটা মোহ লুকিয়ে থাকতে পারে? ২০০৪/০৫ থেকে ২০১৬(এখন ২০২০),গত ১৬বছর গোটা দুনিয়া ওই একটা পায়েই বুদ হয়ে আছে। সমর্থকদের কাছে যেই পা অনেকটা হীরকখন্ডের মত, প্রতিপক্ষের কাছে যেটা তীক্ষ্ণ তরবারীর মতই ধারালো। মহানায়ক তার অমরত্বের দিকে ছুটে চলেছেন প্রতিনিয়ত, নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অনাগত আগামীতে হয়তো মেসি শব্দটা হয় অনন্য, অসাধারণ কিংবা সর্বশ্রেষ্ঠ শব্দের নতুন রূপ।
লিওনেল মেসি, কতশত ডিফেন্ডারের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়া এক নাম। কত কোচের মাথাব্যথার নাম এই মেসি। লিওনেল মেসি নামটা কেবল মানুষের ঘুম কেড়ে নেয় না কিংবা মাথাব্যথা ধরিয়ে দেয় না, এই নামটা মানুষকে বেচে থাকারও অনুপ্রেরণা দেয়। জীবনযুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়ে যাওয়া মানুষগুলো এই মেসিকে দেখেই বেচে থাকার অনুপ্রেরণা পায়। প্রতিপক্ষের কড়া ট্যাকলে ভুপাতিত হওয়া লিও যখন প্রবল আত্মবিশ্বাসে ফের উঠে দাড়ায় তখন হাজার মাইল দুরের এই দেশেরই কোন এক যুবক হয়তো ভাবে লিও ঘুরে দাড়াতে পারলে আমি কেন নয়। লিওনেল মেসি নামটা একটা অবিরাম ত্যাগের নাম। লিওনেল মেসি একজন খুনীর নাম, যিনি প্রতিনিয়ত খুন করে চলেন ফুটবল মাঠে। প্রতিপক্ষের জয়ের স্বপ্নকে নিয়ে যিনি ছেলেখেলা করেন।
লিও মেসিকে নিয়ে কমেন্ট্রেটর রয় হডসন মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন- This is absolutely world class…genious…genious..best footballer of the planet.
-They tell me that all men are equal in God’s eyes, this player makes you seriously think about those words.” – Football commentator Ray Hudson
রোমিরিও তো কম যান নি-Newton and Einstein had a certain level of autism – I hope that, like them, Messi surpasses himself every day and continues to give us his beautiful brand of football.” – Romario
একসময়ের সতীর্থ থিয়োগোর কাছে- ” give him the ball and stand back and watch. People often say to me they saw Pele and Maradona play. In the future, I will be able to say I saw Messi play.” – Thiago Alcantara
আর রিবেরীতো রাগ ঢাক না রেখেই বলে ফেললেন”-Messi is class. There is him, and then there is the rest. What he does is extraordinary.” – Franck Ribery
লিওনেল মেসি একজন স্বপ্নচারীর নাম, যিনি প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখান হাজারো মানুষকে। লিওনেল মেসি নামটা মাদকতার মতো,যেই মাদকতা সেমিস্টার ফাইনালের আগেরদিনও একটা ছেলেকে টিভিসেটের সামনে বসাতে বাধ্য করে। রোজারিওর রাস্তায় ৫ বছর বয়সে ফুটবল খেলতে শুরু করা ছেলেটা আজ অনেক পরিনত, সময়ের ক্রমাগত অবগাহনে তার কাঁধ আরো চওড়া হয়েছে, সেইসাথে কাধে পড়েছে নেতৃত্বের ভার।
ক্লাব ক্যারিয়ারে বার্সেলোনাকে দিয়েছেন পূর্ণতা, নিজেকে নিয়ে গেছেন ক্রমশই এগিয়ে চলেছেন অমরত্বের দিকে। ক্যারিয়ারটাকে শিল্পীর ক্যানভাস ধরলে ছবিটা পুরোপুরি আকা শেষ, কেবল তুলির শেষ আচড়টা বাকি। তুলির শেষ আচড়টা হবে জাতীয় দল আর্জেন্টিনার হয়ে অপুর্ণতার অবসান। কাতালুনিয়ার গর্বের জার্সিতে বহুবার বিজয়োল্লাস করলেও আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে কখনো শেষ হাসি হাসা হয়নি মহানায়কের। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে এসে দেশের জার্সিতে নিজের ঔজ্জল্যটা ভালো ছড়াচ্ছেন মহানায়ক। তাই অপেক্ষাটা করাই যায়, কোন এক ফাইনাল শেষে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসির হাতে শিরোপা, সেইসাথে মুখে আকর্ণবিস্তৃত হাসি, এমন মুহুর্ত দেখতে কে না চায়। সৃষ্টিকর্তা নাকি সাহসীদের পক্ষে থাকেন সবসময়। রোজারিও থেকে উঠে আসা ছেলেটিওতো প্রবল সাহসীদেরই একজন। প্রতিনিয়ত বাধা ঠেলে নিচ থেকে উঠে এসে বিশ্বসেরায় পরিনত হয়ে ওঠা ছেলেটার প্রতি ইশ্বর হয়তো পরিপূর্ণ দয়া নিয়েই তাকাবেন। ছেলেটার অপুর্ণতার আক্ষেপটাও হয়তো তিনি ঘুচিয়ে দেবেন। পুর্ণতা আর অপুর্ণতার গল্পটা না হয় ক্যারিয়ারের সূর্যাস্তে করব। গল্পটা তোলাই রইল, ততদিন একটা শো দেখি চলুন। “মেসি ম্যাজিক” চলবে সবসময়, বার্সেলোনা কিংবা আর্জেন্টিনার খেলায়। চোখ রাখুন আপনার টিভি, মনিটর কিংবা হাতে থাকা মোবাইলের স্ক্রিনে।
জেগে থাকুন রাত ৪ টা পর্যন্ত আর আনসীন হয়ে থাকুক মেসনজারের মেসেজগুলো।
এভাবেই কাটুক না আর কয়েকটা বছর।অদুর ভবিষ্যৎ এর জন্য বাকি কথাগুলো নাই বা বললাম।

তথ্য সুত্র ও কৃতজ্ঞতা ঃ Den of cules