বাংলাদেশকে ফুটবল স্টেডিয়াম ‘উপহার’ দিতে চায় স্পেন

19
Advertisement

: ক্রীড়া ডেস্ক:  একটি অত্যাধুনিক ফুটবল স্টেডিয়ামের জন্য দীর্ঘদিনের আক্ষেপ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে)। যুগ যুগ ধরে ফুটবল ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে আসছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। শুধু ফুটবলের জন্য ব্যবহার হওয়া একমাত্র ভেন্যু কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম।

শত কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শেষ হলে কাজ শুরু হবে পুরোদমে। এরই মধ্যে ফুটবলের জন্য সুখবর-স্পেন সরকার বাংলাদেশকে একটি অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম উপহার দিতে চায়। স্পেনের প্রথম পছন্দ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম।
জি টু জি (সরকার টু সরকার) চুক্তির মাধ্যমে এই স্টেডিয়াম নির্মাণের আগ্রহের কথা ঢাকাস্থ স্পেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বাফুফেকে। দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনের প্রচেষ্টাতেই স্পেন দূতাবাস বাংলাদেশের ফুটবলকে বিশাল এই উপহার দেয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

বাফুফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ঘোষণা দেয়নি। দেয়ার সুযোগও নেই। কারণ, স্টেডিয়াম নির্মাণ হবে দুই দেশের সরকারের চুক্তির মাধ্যমে। জানা গেছে, স্পেন সরকার যে স্টেডিয়াম উপহার দিতে চায়, সেটা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামকেই নতুন করে নির্মাণ করে। যে কারণে, এটা সরকারের বড় সিদ্ধান্তের বিষয়। কারণ, প্রায় ১০০ কোটি টাকার সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে।

তবে স্পেন কিভাবে স্টেডিয়াম তৈরি করে দিতে চায়, সে প্রস্তাব এখনও দেয়নি বাংলাদেশ সরকারকে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি বর্তমানে জাপানে। শনিবারই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি ফিরলে স্পেন দূতাবাসের সঙ্গে দ্রুতই আলোচনা হবে।

জাপান থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্পেন দূতাবাস বাফুফেকে কিছু বললে বলতে পারে। তবে আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। লকডাউনের আগে স্পেন দূতাবাসের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের একটা আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। হয়নি। আমি ফিরলে হয়তো হবে। দেখি তারা কী প্রস্তাব দেয়। স্পেন সরকার যতক্ষণ আমাদের নির্দিষ্ট করে কোনো প্রস্তাবনা না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে পারব না।
জানা গেছে, স্পেন সরকারের এক নম্বর পছন্দ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ভেঙে নতুন করে তৈরি করে দেয়া। এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। এখানে আইনি একটা ব্যাপারও আছে। তারপরও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। স্টেডিয়াম কক্সবাজারে হতে পারে, পূর্বাচলেও তো হতে পারে। তারা কিভাবে করতে চায়, সেটা আগে আমাদের জানতে হবে।’

স্টেডিয়াম যেখানেই হোক, স্পেন সরকারের আগ্রহটাকে কাজে লাগাতে চান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা যদি আমাদের স্টেডিয়াম তৈরি করে দিতে চায়, সেটা অবশ্যই ভালো খবর। আমরা সাদরেই তাদের প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানাই। যেখানেই স্টেডিয়াম হোক, সেটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া হবে।